![]() |
||
|---|---|---|
| প্রথম পাতা | মনের ঘুড়ি | |
|
|
সুচেতা মিশ্র বলবার কথা ছিল এই যে
যাবতীয় তথ্য তালাশ উপেক্ষা করেও খুব সন্তর্পণে হেঁটে চলেছি। বেপরোয়া আগ্রহে নৃত্যে-বাদ্যে স্রোতস্বিনীর নিত্য আহ্বান, ফিরে আসার। তোলপাড় জল। কথা-সমস্ত কথা, অবিরাম বিলাপ, সেঁচে নেওয়া অভিমান, তুমুল ঝঞ্ঝা, বেয়াদপ ভুল নিমেষে কালো জঠরের উত্তাপে মোহিনী বাঙ্ময়। সন্তরণশীল পাদুকা পড়ে আছে বৃথা। হয়তো বলতে পারতাম আবহমানের স্বপ্নগুলো। ওৎ পেতে ছিল বহুদিন হায়েনা শিকারীর মতোন। বড় দেরি হোল। নির্বাসিত লাবণ্য খুঁজে ফিরছে এখন নিজের জন্যেই – আকাঙ্খার কথা, যৌথ-আশার কথা।
কাঙ্খিত দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষায় আছো, জানি। দাপিয়ে বেড়াচ্ছো তবু মধ্যরাতে, নতজানু হয়ে বারবার ভুল আহ্বানে। দুর্বোধ্য টুকরো টুকরো মৃদু কম্পন ভেসে যেতে দিয়েছো মৌন। সেইসব গোপন রিক্ততার প্রাণহীন ছায়া দুচোখে ভরেছো আজ। পাখি, হায় পাখি, সেই পাখি – যার ডানায় মুখ গুঁজে খুঁজেছো শান্তি, ডানা গুটিয়ে নিয়েছে। হিসেবি খুঁজেছে বৃক্ষ বন্ধনহীন সঠিক অনুপাতে। তোমার জন্যই সমস্ত শক্তিকে রাঙিয়ে নিয়েছি। মুখের ভেতর জ্যোৎস্না, এখন পদ্মপলাশের গভীরতায় রজত মুহূর্তে পছন্দমাফিক শোভন ব্যাথায় নিরব ভোর হয়েছি। আমার বসত বাড়ির লাউ মাচায় জোড়া-স্বপ্ন ফুল হয়ে ফুটে উঠছে। শুধু গোপন কান্না ঝরে পড়ছে তোমার চোখ থেকে, ফিরতে চাইছে মোহনার দিকে। অনন্তযৌবনা অপেক্ষায় ছিল যাদুকাঠি ছুঁইয়ে দেওয়ার। ফেরোনি, বিষন্ন তুমি ফিরতে পারোনি। হয়তোবা আবেগ-রসিক এক স্বভাব-নারী গ্রীবায় গোলাপ ঠেকিয়ে পুড়িয়ে দেবে বিষন্ন তোমাকে। সময়ে নির্ধারিত কিছু চারাগাছে দিলে যেমন বেড়ে ওঠে, তেমনি আঁধারী চুলের ছোঁওয়ায় ভস্ম ফুঁড়ে তুমি হয়ে উঠবে অকস্মাৎ বহমান। সেই তুমি কেমন করে নদী ছোঁবে।
|
|