যখন ইচ্ছা হয়, আমি আমাকেই ধ্বংস করি
আমার চোখকে, কানকে, হাতকে, পাকে, চুলকে
সবকিছুকে,
মনকে।
মনকে?
তবুও কখনো প্রজাপতি ধরিনা
ভয়ে
যদি রঙ্গিন পরাগ লেগে যায় হাতে
অংশ সুন্দর হারানোর অস্বস্তিতে পরে যদি সে।
উড়ে গেলে ভাবতাম
ভয় পায়।
কিন্তু তা না করে সরে যায়, আংশিক
যেন অগ্রাহ্য করল আমাকে
যেন রঙ-সুন্দর মাখার যোগ্যতা আমার নেই।
তা, কি আর করার
যখন মধুর লোভ হয়
নিজের মৌচাকই ভাঙি
যখন পিষ্ট করতে ইচ্ছে করে
আমাকেই চেপে ধরি
নিজের ধ্বংসে মেতে উঠি।
অগ্রাহ্য, আংশিক সরে যাওয়া
কল্পনার ধোঁয়ায় নদীকে রহস্য বাঁক ধরা
অনন্তকে ভাবা অনন্ত গহ্বর
এই সবই বাধ্য করলো " বিকল্প" নিতে
অথবা
একঘেঁয়েমিতে নিলাম একজন " বিকল্প"
দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আর কি!
এখন তাই ইচ্ছা হলে,
চাক ভাঙাই, ভাঙি,
পিষ্ট করি, হই,
মানে ধ্বংস করি, হই ও।
তবে চাক ভাঙার ব্যস্ততায় ও মনে পড়ে
প্রজাপতি নরম সরে যায়।
মেঘ, ফুল ও বায়বীয় রহস্য বাঁকে " বিকল্প" তে ক্লান্ত হলে
আবার ফিরে আসে
কটাক্ষ করা প্রজাপতি, অংশ সুন্দর।
ছেলে বেলায় ভূতের ভয়ে ঘুম ভাঙার পর
আবারও স্বপ্নে ভূত আসার মত
অথবা
দুলর্ভ কিছুর দিকে
সামর্থ্যের
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও
বারবার চোখ চলে যাওয়ার মতো।
যাই হোক,
প্রজাপতিহীনতা,
অংশসুন্দর কিংবা মেঘ, ফুল
অথবা আমার সেই " বিকল্প"
সবই ধ্বংসাস্ত্র।
আর সেই অস্ত্রে ধ্বংস করছি
আমার চোখকে, হাতকে, কানকে, পাকে, চুলকে
আর অবশ্যই আমার মনকে।
মনকে?
হ্যাঁ, কেন নয়?
যদি ধ্বংসের মজা পেতে চাও
তবে নিজেকেই ধ্বংস করো
কেন মিছে অসহায় প্রজাপতিকে?
তাছাড়া সেই "বিকল্প " তো আছেই।
আশ্বস্ত করছি তোমাকে প্রজাপতি
উড়ে যাও, কিংবা আঘাত করো
সরে যেওনা
কেন বোঝনা সরে যাওয়া মানে হাতের নাগালেই থাকা।
আমি না হয় মানবিক হয়ে ফিরে গেলাম
বেছে নিলাম "বিকল্প "
কিন্তু তারা?
শুধু অংশ সুন্দর নয়, তোমার সমগ্র সুন্দরকেই গ্রাস করবে।
কেননা,
" বিকল্প" নেয়ার সাহস তাদের নেই
তারা ভীত, ধার্মিক
ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমি দেখি তাদের লোভ
লোভাতুর দৃষ্টিকে
কিন্তু হায়
দুভার্গা তারা,
প্রথা নিয়মের জালে বন্দী করলো
ঈশ্বর তাদের।
স্বাথর্পর সে,
তাদের করলো ভীত, পাপী।
তাইতো তারা,
অন্ধকারে দানব হবে
ঈশ্বরকে ভুলবে
ধ্বংস করবে
প্রয়োজনে, তবু প্রথা ভাঙবেনা।
অংশসুন্দর প্রজাপতি
তুমি হয়তো প্রথম প্রথম উড়তে,
উড়তে কি?
বুঝি উড়ার ক্লান্তিতে এখন
সরা ছাড়া উপায় নাই
তা, প্রতিবাদী হওনা কেন তোমরা?
অংশ সুন্দরকে ঝেড়ে ফেলে কেন
চরম শিক্ষা দাওনা লোভাতুর কে?
অথবা সবাই মিলে মরতে পারোনা?
সরতে সরতে ক্লান্ত হয়ে হয়তো
স্থির হবে একদিন
তখন আমার হাত থেকেও বাঁচবেনা
যৌক্তিক অযোগ্য আমিও হয়তো হব লোভাতুর।
দুধ পেলে কি কেউ ঘোল খায়?
ভেবে দেখ সরতে থাকবে, না উড়ে যাবে?
পরিণামে একদিকে মরা অন্যদিকে বাঁচা
আমি বলি
চরম নিষ্ঠুর, স্বাথর্পর হও
ধ্বংস না হয়ে ধ্বংস করতে থাক।
এ তোমাদের অন্যায় হবেনা
বরং হবে এক প্রতিশোধ,
লোভীগুলির প্রতি,
ঈশ্বরের প্রতি, তার অসম প্রথার প্রতি।
শেষ পর্যন্ত ভাব,
পরিবর্তন
চাও না স্থবির ধ্বংস?
আর আমি?
আমি থাকব এভাবেই,
অংশ সুন্দরকে দেখে, কিংবা ছুঁয়ে ও
কিন্তু অবশ্যই ধ্বংস করে নয়,
ধ্বংস হয়ে।
আবারো নিজের
চোখকে,
কানকে,
হাতকে,
পাকে,
চুলকে,
তাকে,
তা 'রে,
আমারে এবং
আমার মনকে নিয়ে।
|