name
প্রথম পাতা কবিতা  

 

 

 

 

শেখ নজরুল

 

অন্যান্যদের কবিতা

অনির্বান পাল

পুলক গাঙ্গুলী

বিপ্লব সেনগুপ্ত

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

রংগীত মিত্র

রুদ্র পতি

শেখ নজরুল

সৈয়দ তওফিক

 

 

মা আর অঞ্জনা তিলকবিশ্বাসী নারী

আমার নিরন্ন-রুগ্ন ডানহাতের তালুতে
স্বাস্থ্যহীন অথচ স্পষ্ট এক তিলক দেখেই
মা বলেছিলেন
খোকা, তোর বিদেশ যাবার যোগ আছে।
তখনো স্বদেশের মুখে ভালোবাসার বসতি
প্রবাস মানেই ছিলো ঘৃণাশ্রিত টচকা বমির উদগীরণ
তবু তার স্নেহমাখা আদরের ছোঁয়াটুকু
নির্মল আনন্দ ভেবে দৃষ্টিমুগ্ধ নিঃষ্পাপ আলোয়
দাঁড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ। তারপর কেটে গেছে বহুদিন
পার হয়ে গেছে বহ অপরাহ্ন আর ঘুঘুডাকা দুপুরেরকাল
শ্রমিকের রোদেজ্বলা ত্বকে, মজুরের ফোঁস্কাপড়া হাতে
যাবতীয় ভাগ্যরেখা আর সেই স্বপ্নতিলক পলাতক
দৃশ্যমান পড়ে আছে শুধু খসখসে হাতের গহ্বর
লাঙলের বাটে মিশে আছে
ভাগ্যচিহ্নিত সেই তিলকের পেশীহীন শরীর;
বুকের ভেতর এতো কষ্ট তবু প্রত্যহ গভীর হয়েছে
স্বদেশ ভালোবাসা।
অধরতিলকে ভালোবাসা নিশ্চিত
অঞ্জনার কথা সত্য হলো না কখনও
ভালোবাসার পারস্পারিক অবস্থান ছোঁয়ার চন্দ্রবিন্দু হারিয়ে
স্মৃতি ভরেছে আজ অর্থহীন, অবাঞ্ছিত শব্দমালা।

এখন এই পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের শেষআলোয়
প্রিয় ইছামতির কূলে বসে একাকী ভাবি
মা আর অঞ্জনা কী তিলকবিশ্বাসী নারী!
এতো কিছু বহমান পরাজয়, স্বপ্নহীন দিনরাত্রি তবু
এখনও খুঁচ্ছে কেনো কপালের মাঝখানে অন্য তিলক
কালো নয়, নয় তামাটে; রক্তলাল। সে-কি মৃত্যুর অন্য নাম!

 

কবজতত্ত্ব

তাবিজতো ছিলো আয়াতুল কুরছির
কবজতো ছিলো সুরা ফাতিহার
ছিলো ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া আর মাহফিল শেষে
হাতজোড়ে প্রার্থণার কারুকাজ;
বিটুমিনবোধ তবু পেলো না সকাল
রাতের কবিতা রাত শেষে বলে -
জোছনার চেয়ে মানুষের কাছে
মৃত্যুই এখন নিকাহের শুদ্ধ সম্পাদনা।
নাবিত্বে সহজ ছিলো
চণ্ডাল বোধের এই গুণগান!
সামান্য মানুষ আমি, সাতঘাট ঘুরে ঘুরে
ঘটাতে পারি না পাখি হত্যার অধিক বিস্ফোরণ।

 

বাঘ

বাঘ নিয়ে খেলবে, খেলো
খেলাতো হবে বাঘের সাথে!
ডোরা কি গুনেছো মাঘের রাতে
জেনেছো কি তার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ?
সাধে কী তুমি অভাবগ্রস্থ!
খাদ্যে মাংশ নয় কেনো খন্ডে
পারলে দাঁড়াও মৃত্যুদন্ডে
হা বাড়বে বাড়বে হুংকার
বাঘ কি তোমার মন্ত্রীবাবার?
পুষে রাখা পোষমানা এক নয়
এ কথাতো মানবে নিশ্চয়।

 

ফিচার

গল্প ছোটো, এলোমেলো, সাজাবে কার সাধ্য
জীবন এখন প্রতিহিংসার মজার উপপাদ্য
জীবন ঘ'ষে আগুন জ্বলে, ভরা দুপুর কাঁদে
খাঁচা থেকে মুক্তি নিয়ে পড়ছে পাখি ফাঁদে।

সেই ফাঁদে এক ফিচার হবে ব্যস্ত সম্পাদক
সচিত্র রিপোর্টে যে নিবদ্ধ তাঁর চোখ
রঙিনফাঁদে রক্তডানায় মেকআপ হলো শুরু
চেষ্টা করেও পান না খুঁজে কে যে ফাঁদের গুরু!
খবর পেয়ে পাখি- প্রেমিক বসেন দ্রুত বৈঠকে
হরহামেশা ঘটছে এমন ক বলে যান খ-কে।

ফোনে হঠাৎ খবর আসে সম্পাদকের কাছে
পল্টনে কাল যোগ দেবে ভাই, ফাঁদের রঙ্গ- নাচে?
সম্পাদকের কপাল ঘামে, দৃষ্টি ফেরান চাঁদে
ভাবেন তিনি নিজের পা কি আটকে গেছে ফাঁদে!
নিজের কাছে নিজেই কেনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন
মানবতার সৈকতে যে, তাঁর পদক্ষেপ ভিন্ন।

মনকে বলে - দেখরে চেয়ে জোছনাভরা চাঁদ
ভুলকে পিষে ফুল হয়েছি, জানিস আত্মনাদ?