name
প্রথম পাতা কবিতা  

 

 

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

 

অন্যান্যদের কবিতা

অনির্বান পাল

পুলক গাঙ্গুলী

বিপ্লব সেনগুপ্ত

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

রংগীত মিত্র

রুদ্র পতি

শেখ নজরুল

সৈয়দ তওফিক

 

 

 

বুশের মাথা

কহিল বুশ, শুন গো মিস লারা,
মাথাটা মোর করিতেছে না কর্ম।
মাথার কথা ভেবেই আমি সারা,
ফেলিয়া মোর সকল দ্বীন-ধর্ম।
কেন যে মোর হতেছে মনে আজ,
মাথাটা মোর হয়েছে পুরো নষ্ট।
নহিলে কেন ফেলিয়া সব কাজ,
তেলের লাগি করিব এত কষ্ট!
ভাবিয়া তুমি বাহির কর গতি,
মাথাতে মোর না যেন হয় ক্ষতি।

বুশের কথা শুনিয়া লারা কহে,
রাখিব কোথা এত যে মোর দুঃখ!
ব্যাপার খানা সোজাতো দেখি নহে,
ভাবিতে হবে ভাবনা বড় সূক্ষ্ম।
এমন ভাবে এগোতে হবে, যেন
না পারে কেহ করিতে কোন সন্ধ।
যদি বা কেহ ভাবেই কিছু হেন,
করিতে হবে তাহার মুখ বন্ধ।
নহিলে সবে বুঝিবে সব ঠিক,
পাগল ভেবে তোমাকে দেবে ধিক।

ভাবিয়া বহু ডাকিল শেষে লারা
গোপন সভা করিতে পরামর্শ।
সভার যারা গুণীন ছিল, তারা
ভাবিয়া পার করিয়া দিল বর্ষ।
বিফল হয়ে কহিল লারা শেষে,
এদের দিয়ে হবে না কোন কর্ম।
সময় শুধু চলিয়া যাবে ভেসে,
মাথার তব যাবে না জানা মর্ম।
কেন যে তবে রয়েছে এরা বসে,
দাওনা চড় এদের গালে কষে!

লারার কথা শুনিয়া অপমানে,
সভার হল সবার বাকরুদ্ধ।
লাজেতে কেহ চাহে না কারো পানে,
নীরব হয়ে রহিল সভাশুদ্ধ ।
উঠিয়া শেষে কহিল জন ডিক,
হতেছি আমি মগজ বিশেষজ্ঞ।
বুশের মাথা করিব আমি ঠিক,
তোমরা শুধু করিতে থাক যজ্ঞ।
এখন তবে বুশকে দাও ডাক,
মাথাটা তার পরখ করা যাক।

বুশের মাথা দেখিয়া ডিক কহে,
মাথার তব অসুখ বড় শক্ত।
ভেতরে এর কিছুই ঠিক নহে,
ঘিলুটা তব দুইটি ভাগে ভক্ত।
রাইটে এর কিছুই নাহি ঠিক,
তেলের থটে হয়েছে সব পিষ্ট।
লেফটে সব করেছে পুরো লিক,
সেখানে কিছু নাহিকো অবশিষ্ট।
মাথাটা যদি করিতে চাহ ভালো,
তেলের লোভ সেখান থেকে ঢালো।

 

ঈদের চাঁদ

রোযার ঈদের চাঁদটা চিকণ, কুরবানিরটা মোটা,
কারণটা এর জানতে চাইলে সবাই-ই
দেয় খোঁটা

কেউবা দারুণ হাসি হেসে
কেউবা ভীষণ কাশি কেশে
কেউবা বলে ধমকে শেষে

এখনো তুই ছোটা,
বুঝবি না তুই কেন যে চাঁদ চিকণ কিবা মোটা

ধমক খেয়ে যাহার যথা
চুপটি করে দাঁড়িয়ে তথা
ভাবতে থাকি চাঁদের কথা -
   ঘুম না গিয়ে ফোঁটা,
ভাবতে ভাবতে বহু দিনই রজনী যায় গোটা

  ভাবতে গিয়ে চাঁদটা দেখে
  হঠাত আমি গেলাম শেখে
  তিরিশটি দিন রোযা রেখে -
    শুকিয়ে গেছে ওটা,
অপর চাঁদটা আড়াই মাসে হয়েছে খেয়ে মোটা


স্বাধীনতার কান্না-হাসি

মা গো, কাঁদছ কেন তুমি?
জানই তো গেছে বাবা
পাক সেনাদের ভয়াল
থাবা
ছিন্ন করে মুক্ত করতে আমাদের এই ভূমি,
তবু কেন থেকে থেকে কাঁদছ গো মা
তুমি?

মা গো, মোছ চোখের পানি
দেখবে বাবা দুদিন পরে
জয়ী হয়ে ফিরবে ঘরে
হাতে
নিয়ে লাল-সবুজের স্বাধীন নিশান খানি,
তবু কেন মা গো তোমার চোখের কোণে
পানি?

মা গো, একটু খানি হাস
কেঁদে বল কি লাভ হবে?
চোখের পানি চোখেই
রবে
তাহার চাইতে বাবার জন্য দোয়া করি আস,
স্বাধীনতার কথা ভেবে একটুখানি
হাস