name
  সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা দ্বিতীয় বর্ষ | প্রথম সংখ্যা

 

  • প্রতর্ক্য
  • কবিতা
  • গল্প
  • নিবন্ধ
  • মনের ঘুড়ি
  • আমাদের কথা
  • লেখক পরিচিতি
  • মতামত
  • আলোচনা
  • লেখা পাঠান
  • বাংলায় লিখুন
  • আর্কাইভ
  •  

    সম্পাদকীয় বার্তা

    বছরকাল মুছে গেছে। নিরবতা নিয়ে নিজের পক্ষে কিছু বলার নেই। খোলা চোখের সামনে দিয়ে একটা বেহদ্দ সময় যেন বিদ্যুৎ গতিতে লাফিয়ে চলে গেল - কিছু বুঝে ওঠার আগেই, বীক্ষণ নিয়ে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। চারদিক রীতিমত লন্ডভন্ড।

    সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম-রিজওয়ানুর গল্প কথা হয়ে এলিয়ে আছে আনাচে কানাচে। প্রায় চুরমার করে দে埌াদ গর্বিত শাসনদন্ডের হিংস্রতায়। এতে ভবিষ্যতের উজ্জ্বল ড্রয়িংরুম ও শপিং মলের আসনাই যে আরোও রঙীন হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নয় যেকোন প্রতিবাদ আন্দোলনেই পুলিশের যেন একচেটিয়া অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বিচারে গুলি চ𼺖নো। উত্তরবঙ্গের দিনহাটায় ও গঙ্গারামপুরের আলুচাষিদের বিক্ষোভে পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণ আবারো প্রমান করেছে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি এখন কোন পথে। দিনহাটায় ফরওয়ার্ড ব্লকের বিক্ষোভে গুলি চালনায় পাঁচজন ব্লক কর্মীর মৃত্যু রীতিমত প্রশাসনিক বর্বরতা ছাড়া কিছুই নয়। এখন শুরু হয়েছে হাওড়ায় শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কর্ত্বপক্ষের প্ররোচনায় পুলিশি শাসন। পুলিশি সংস্কৃতি জোর করে সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সমস্যা গুলোকে খতিয়ে দেখে সমাধানের পথ বের করা কী খুব অসম্ভব?

    সামনে পঞ্চায়েত ভোট। সংখ্যালঘু ভোট হাতানোর তাগিদে রাজনৈতিক গেম প্ল্যানিং এ তসলিমার মত বিতর্কিত লেখিকাকে ঘুঁটি বানিয়ে যেভাবে ভারত থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হলো তাতে আর যাই হোক ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতবর্ষের মুখ যে উজ্জ্বল  হলোন488;ঙ্গে রাজনীতির ঘোলা জলে হাত ধূয়ে ফেলতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারেরও দ্বিধা হওয়ার কথা নয়, হয়ও নি।

    এদিকে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। কখনোও বাগান মালিকের অতিরিক্ত লোভ, কখনোও বা সরকারের সেই ড্রয়িং রুম সাজানোর মানসিকতায়। মৃত্যুর ঘন্টা বাজছে চা বাগানের সাথে সম্পর্কিত সাধারণ মানুষদের দরজায় দরজায়। অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে বাঁচার রাস্তা। কেন্দ্রিয় ও রাজ্য সরকারের টালবাহানার দায় মাথায় নিয়ে প্রতিদিন আড়কাঠির প্রলোভনের ফাঁদে বলি হয়ে যাচ্ছে তরুণ সমাজ। পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলকে এইভাবে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার দায় এড়িয়ে যেতে পারেননা, না রাজ্য সরকার না কেন্দ্রিয় সরকার।

    টালমাটাল এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের ঘিসিং বিরোধী আন্দোলনের ফলশ্রুতি হিসেবে পার্বত্য পরিষদ থেকে ঘিসিং-এর অপসারণ ও ষষ্ঠ তপশিল বাতিল হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় নতুন গজিয়ে ওঠা দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিমল গুরুং ও জিএনএলএফ নেতা সুবাস ঘিসিং এর সাথে পৃথকভাবে বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করেননি। ঘিসিং এর পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় মোর্চা নেতা বিমল গুরুং পাহাড়ি জনসাধারণের বঞ্চনার আবেগকে তুরুপের তাস হিসেবে কাজে লাগিয়ে যেভাবে উঠে দাঁড়িয়েছেন তাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোন রাস্তাও ছিলনা। আপাততঃ পাহাড় রক্তাক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচলো বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। পাহাড়ের জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে মরিয়া রাজ্য সরকার গতিক বুঝে পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নতির দিকে নজর দিলেই বরং আখেরে লাভবান হবেন। নাহলে ধামাচাপা পড়ে যাওয়া গোর্খাল্যান্ড পৃথকীকরণের আন্দোলন বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের ক্ষোভের ফলে যেভাবে দানা বেঁধে উঠছে তাতে পশ্চিমবঙ্গের বিভাজন আটকানো যে সহজ হবে না, এও মনে রাখা দরকার পশ্চিমবঙ্গের শাসকমন্ডলীর।

    এর ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত রোজই হয় ধর্ষণ নয় খুন নিদেন পক্ষে দুর্ঘটনা, যত্রতত্র। আর এসব নিয়েই বেঁচে আছে বঙ্গ সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং আমরাও। শেষপর্যন্ত, বীক্ষণ- বন্ধুদের ক্রমাগত দরজায় কড়া নাড়ায় এই সংখ্যা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে চারটি সংখ্যা আমরা প্রকাশ করতে পারিনি। দ্বিতীয় বর্ষে, আশা রাখি অন্তঃত চারটি সংখ্যা প্রকাশ করার। গল্পে, কবিতায়, প্রবন্ধে সমৃদ্ধ এই সংখ্যা থেকে আমরা শুরু করেছি নতুন বিভাগ, আলোচনা। এই বিভাগে থাকবে বই, সিনেমা, নাটক ও গান অথবা সমসাময়িক যেকোন বিষয় নিয়ে আলোচনা। আবারো বলছি, পাঠক ও লেখক আসুন বীক্ষণকে সমৃদ্ধ করুন আপনাদের বন্ধুত্বে।

     

    সুচেতা মিশ্র
    এপ্রিল, ২০০৮

     

    banglahelp
     
    dy> r" border="0" align="right">   er="0" align="right">